সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমাল ফেড

এটিই হয়তো ২০২৫ সালের শেষ কাটছাঁট: জেরোম পাওয়েল

২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কর্তন করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)।

২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কর্তন করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। একই সঙ্গে ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, নীতিসংক্রান্ত বিভাজন ও শাটডাউনের কারণে চলতি বছর সুদহারে আর কোনো কাটছাঁট নাও আসতে পারে। খবর রয়টার্স।

ফেডের দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার কমানোর বিষয়ে এক প্রকার নিশ্চিত ছিলেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার সীমা দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে।

ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) বৈঠক শেষে গত বুধবার জেরোম পাওয়েল বলেন, ‘শ্রমবাজারের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন ফেড। পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক তথ্য ছাড়া আরো পদক্ষেপ নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হবে।’

ফেডের বিবৃতিতে শাটডাউনের কারণে সরকারি তথ্যপ্রকাশ বন্ধ থাকার বিষয়টি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জেরোম পাওয়েল জানান, যদি শ্রমবাজার ও মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য ফেড না পায়, তবে নীতিনির্ধারকরা আরো সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করব, সেগুলো মূল্যায়ন করব এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভেবে দেখব—এটিই আমাদের কাজ।’

জেরোম পাওয়েল বলেন, ‘আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন, এর (তথ্যের ঘাটতি) প্রভাব ডিসেম্বরের বৈঠকে পড়তে পারে কিনা—আমি বলছি না যে পড়বেই, তবে হ্যাঁ, এমনটা কল্পনা করা যায়। আপনি জানেন, কুয়াশার মধ্যে গাড়ি চালালে গতি কমাতে হয়।’

ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের বাজেট বিরোধে সরকারি শাটডাউন দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করেছে। এটি ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণে জটিলতা তৈরি করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুদহার আরো কর্তনের চাপ দিলেও তা বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে বিলম্বিত হতে পারে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ডেপুটি চিফ মাইকেল পিয়ার্স বলেন, ‘জেরোম পাওয়েল স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, এবারের বৈঠক ও ভবিষ্যতের বৈঠকগুলোর মধ্যে সুদহার কর্তনে একটি বিরতি আসছে।’

চলতি বছর ফেড প্রথমবার সুদহার কমায় গত সেপ্টেম্বরে। এরপর এক মাসের ব্যবধানে সুদহার কমানো হলেও ফেডের অনেক সদস্য বছরের বাকি সময় মূল্যস্ফীতি বাড়ার পূর্বাভাস নিয়ে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে শ্রমবাজারের দুর্বলতাকে গুরুত্ব দেন এমন অনেকে বলছেন, ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি প্রণয়নে সতর্কভাবে এগোতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।

জেরোম পাওয়েল বলেন, ‘অর্থনীতি এখনো মিশ্র ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিম্ন আয়ের ভোক্তারা ক্রমবর্ধমানভাবে চাপে থাকলেও উচ্চবিত্তরা ব্যয় বাড়াচ্ছেন। ব্যবসায়িক বিনিয়োগ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে, কিন্তু কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে না।’

এবারের সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তে দুই ফেড কর্মকর্তা ভিন্নমত দেন। আরো বড় মাত্রায় কর্তনের পক্ষে ছিলেন ফেড গভর্নর স্টিফেন মিরান। আর কানসাস সিটি ফেড গভর্নর জেফ্রি শ্মিড সুদহার কর্তনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। সেন্ট লুইস ফেডের তথ্য অনুযায়ী ১৯৯০ সালের পর এটি এফওএমসির তৃতীয় বৈঠক, যেখানে আরো বেশি হারে কর্তন বা একেবারেই না কমানোর মতো ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন কর্মকর্তারা। এটি ফেডের ভেতর গভীর বিভাজনের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও